Header Ads

কর্মক্ষেত্রে সফলতার কৌশল

কর্মক্ষেত্রে সফলতার কৌশল



কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য সঠিক কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে। প্রতিদিনের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হলে সুসংগঠিত হওয়া অপরিহার্য। কর্মক্ষেত্রে সফলতা এবং কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন। নিচে কর্মক্ষেত্রে লক্ষ রাখার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলো:

উদ্যোগ নিনঃ বর্তমানে সফলতার অন্যতম ধাপ হলো উদ্যোগ নেওয়া। আজকের প্রতিযোগিতামূলক কর্মজীবনে নিয়োগকর্তারা এমন ব্যক্তিকে খোঁজেন যারা নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিতে পারেন, নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন এবং ব্যবসায়ের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারেন। একইসঙ্গে যে কোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান করতে পারেন। তাই উদ্যোগ নিন, ঝুঁকি নিন।

লক্ষ্য নির্ধারণঃ মনে রাখতে হবে 'কঠোর পরিশ্রম' বা 'ব্যস্ত থাকার' জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে না। দিনের শেষে নিয়োগকর্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো- আপনি কীভাবে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখছেন। তা হতে পারে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী। তাই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আপনার নিজেরও একটি লক্ষ্য থাকতে হবে। এই লক্ষ্যভিত্তিক মানসিকতা আপনাকে ক্যারিয়ারের সফলতা অর্জনে সহায়তা করবে। তা আপনি করপোরেট সিঁড়ির যেখানেই থাকুন না কেন।

যোগাযোগ দক্ষতাঃ যোগাযোগ দক্ষতা একজন কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে সেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যে কোনো প্রয়োজনে বসের সঙ্গে কথা বলুন, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন, তাদের সহযোগিতা করুন, ভালো ব্যবহার করুন। আর কখনো কখন কোন কাজটি করতে হবে তা বসকে জানিয়ে রাখুন। যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনে আপনাকে সক্রিয় হতে হবে।

শেখার মানসিকতাঃ কর্মজীবনে সফল হতে গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে এবং নতুন কিছু শেখার মানসিকতা থাকতে হবে। আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন বা আপনার কোন গ্রেড রয়েছে তা কোনো ব্যাপার না। পেশাগত জীবন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একদমই আলাদা বরং এখানে আপনি যা করছেন তা নিয়ে প্রতিদিন নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। সেই সমালোচনার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কিন্তু সেসবকে পাত্তা না দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরুন এবং বুঝিয়ে দিন আপনি সবসময় নতুন জিনিস শিখতে ইচ্ছুক।

চাহিদা অনুমান করুনঃ চাকরিতে সফল হতে এবং ক্যারিয়ারের সাফল্য অর্জনে প্রখর অনুমান শক্তি থাকা ইতিবাচক দিক। তাহলে বস ও দলের কী প্রয়োজন তা আগেই ধারণা করতে পারবেন। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন 'আমি যদি বস হতাম তাহলে, পরবর্তীতে কী করতে চাইতাম?' তারপর সেগুলো নিজে করার উদ্যোগ নিন ও সময়মতো দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করুন। এতে আপনি অন্যদে তুলনায় এগিয়ে থাকবেন।

বিশ্বাস অর্জন করুনঃ কর্মক্ষেত্রে সফলতার আরেক উপায় হলো বিশ্বাস অর্জন করা। আপনি যত দ্রুত বিশ্বাস অর্জন করবেন তত আপনার জন্য ভালো হবে। যদি অফিস আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেন তাহলে আপনার কাছে কাজ হস্তান্তর করবেন, আপনার ওপর আস্থা রাখবেন। বিশ্বাস অর্জনে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করেছেন এবং আপনার প্রতিশ্রুতি পালন করছেন।

সময়মতো অফিসে আসাঃ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কখনই দেরি করে অফিসে আসা যাবে না। নিয়মানুবর্তি মানুষ যারা ঠিক সময়ে অফিসে আসেন, সময়মতো কাজ শুরু করেন, সবাই তাদের প্রশংসা করেন। আপনি যে অফিসের নিয়মের যথেষ্ট সচেতন এর মধ্য দিয়েই সেই ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়।

প্রযুক্তি জ্ঞান-সম্পন্ন হোনঃ বর্তমান যুগে প্রযুক্তিতে অদক্ষ লোকদের কেউ চাকরি দিতে চায় না। অফিসের মূল কাজগুলো করার জন্য কম্পিউটার-ল্যাপটপ চালানোয় দক্ষ কর্মীদের বড্ড দরকার পড়ে। আর আপনার কাজের ক্ষেত্র যদি প্রযুক্তি নির্ভর হয় থাকে, তাহলে তো প্রযুক্তিতে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে।

নিজেকে মূল্যায়ন করুনঃ ক্যারিয়ারের সফলতা অর্জনের অন্যতম উপায় হলো নিজের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা। অফিসের বার্ষিক মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা না করে- নিজেকে নিজে মূল্যায়ন করুন। এটি করার আদর্শ উপায় হলো- পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো অর্জনের একটি সময়রেখা নির্ধারণ। যদি চাকরিতে নতুন হন তাহলে স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এই লক্ষ্য অর্জনে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করুন। কাজগুলো সাপ্তাহিক বা দৈনিক হিসেবে ভাগ করে নিন। তারপর সপ্তাহের শেষে একটি ছোট ফরম পূরণ করুন। তাহলে বুঝতে পারবেন আপনি লক্ষ্যের দিকে যাচ্ছেন কিনা বা আপনার কৌশল পরিবর্তন করতে হবে কিনা।

কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব, টিম ওয়ার্ক, মানসিক স্থিতিশীলতা, এবং উন্নতির জন্য সদা প্রস্তুত থাকা জরুরি। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।এসব গুণাবলী শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও উন্নতি এনে দেয়।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন:
লেখক, গবেষক ও স্কাউটার
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

শিক্ষকবায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্সমাস্টার্স) মাদরাসা

মোবাইলঃ ০১৮১৯৯৪৭৩৮৭,

ই-মেইলঃsaifuddinbaitushsharaf@gmail.com

 

No comments

Powered by Blogger.