Header Ads

ফেইক আইডি/নিউজ/ চেনার উপায়

 ফেইক আইডি/নিউজ/ চেনার উপায় 

ফেইক নিউজ (Fake News) মানে হলো ভুয়া খবর বা মিথ্যা সংবাদ, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি ও প্রচার করা হয় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে, তাদের সুনাম নষ্ট করতে, বা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে; এটি প্রায়শই আসল খবরের মতো দেখতে হলেও এতে থাকে বানোয়াট তথ্য, যা যাচাই না করে শেয়ার করলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাই আসল ও নকল খবরের পার্থক্য বোঝা জরুরি।

ফেক নিউজ চেনার ১২টি কার্যকর উপায়

1. শিরোনাম অতিরঞ্জিত বা ভয়–জাগানো কিনা দেখুন

ফেক নিউজ সাধারণত অতিরিক্ত চমকপ্রদ, ভয়াবহ বা আবেগপ্রবণ শিরোনাম ব্যবহার করে।


2. খবরের উৎস (Source) যাচাই করুন

✔ ওয়েবসাইটটি পরিচিত কি না
✔ ডোমেইন স্পেলিং অদ্ভুত কি? (যেমন: bbc-news24.com)
✔ প্রকাশকের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে কি না


3. লেখক (Author) সত্যি নাকি ভুয়া প্রোফাইল?

লেখকের নাম গুগলে সার্চ করুন।
অনেক ভুয়া নিউজে লেখকের নাম ও পরিচয় বানানো থাকে।


4. তারিখ ও সময় পরীক্ষা করুন

পুরনো খবরকে নতুন বলে চালানোও ফেক নিউজের কৌশল।


5. প্রমাণ (Evidence) আছে কিনা দেখুন

ফেক নিউজে সাধারণত:
❌ কোনো বিশ্বস্ত সূত্র থাকে না
❌ অস্পষ্ট “বিশেষজ্ঞরা বলেন” ধরনের লাইন থাকে
✔ বিশ্বস্ত হলে সাধারণত: ডেটা, রিপোর্ট বা গবেষণা উল্লেখ থাকে


6. ছবি বা ভিডিও যাচাই করুন

অনেক সময় ছবি পুরনো বা ভিন্ন ঘটনার।
আপনি ব্যবহার করতে পারেন:

  • Google Reverse Image Search
  • TinEye
  • Yandex Image Search


7. বানান ও ভাষাগত ভুল খুঁজুন

ফেক নিউজে প্রায়ই ব্যাকরণ বা বানান ভুল থাকে।
বিশ্বাসযোগ্য মিডিয়ায় সাধারণত তেমন ভুল থাকে না।


8. আবেগকে ব্যবহার করে কি না দেখুন

ভুয়া খবর সাধারণত:

  • রাগ
  • ভয়
  • বিদ্বেষ
  • উত্তেজনা
  • তৈরি করার জন্য লেখা হয়।


9. মন্তব্য বিভাগ দেখুন

অনেক সময় পাঠকের মন্তব্য পড়েও বোঝা যায় এটা ভুল তথ্য।


10. অন্য বড় নিউজ মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে কি না?

একই খবর কি BBC, Al Jazeera, Reuters, Prothom Alo বা অন্যান্য বিশ্বস্ত মিডিয়ায় এসেছে?
যদি না আসে → সন্দেহ করুন।


11. Fact-checking সাইট ব্যবহার করুন

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে

  • BD FactCheck
  • Boom FactCheck
  • AFP Fact Check
  • Snopes
  • PolitiFact


12. URL https ব্যবহার করছে কি না

অনিরাপদ বা অদ্ভুত URL হলে বিশেষ সতর্ক থাকুন।

Please Click


Please Click


Pease Click

Please Click


Please Click
Please Click

Please Click

Please Click
Please Click


Fake News Tools

ফেইক নিউজ কী?

সহজ ভাবে বলা যায়, “ফেইক তথ্য বা নিউজ” বা ভূয়া খবর বলতে এমন খবরকে বোঝানো হয়, যা “বানোয়াট”যার কোনো ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে ঘটনা ঘটেনি,কিন্তু দাবি করা হচ্ছে ঘটেছে।অথবা বলা হচ্ছে, এভাবে ঘটেছে কিন্তু প্রকৃতভাবে ঘটেছে উল্টীভাবে। অসত্য তথ্যকে সত্যে এর মতো করে খবর আকারে উপস্থাপন করা আধেয়ই ফেইকনিউজ বা ফেইক তথ্য বা ভূয়া খবর” ।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্টার ফর ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি, ফেইকনিউজ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে, ‘বানোয়াট তথ্য যখন খবরের ধরণে ছড়ায় কিন্তু একটি খবরের সত্যতা ওবিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য যেসব সম্পাদকীয়তা নীতিমালা কিংবা পদ্ধতি থাকে, তা মেনে চলা হয় না'। সেটিই ফেইকনিউজ। এসব ভূয়া খবরের মধ্যে মিসইনফরমেশন ( ভুল তথ্য) এবং ডিসইনফরমেশন (কুতথ্য) থাকতে পারে।

ভূয়া খবর ব্যাপার টি একেকজনেরকাছে একেক রকম।তবে মূলকথা হলো, যেসব ঘটনা কোনোভাবে মনগড়া বা বানোয়াট এবং সেসব ঘটনার কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য, উৎস কিংবা বক্তব্য নেই, সেটিই ভূয়া খবর । কখনো সেটিহতে পারে নিছক গুজব বা কখনো কোনো আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য তৈরি করা ‘ক্লিকবেইট’ নিবন্ধ।

ফ্যাক্ট চেকিং ও ভেরিফিকেশন-

ফ্যাক্ট চেকিং কী?

‘সত্য খবর’ থেকে ভূয়া খবর বা ফেইক নিউজ’কে আলাদা করে চেনার নাম বাপদ্ধতিকে বলে ফ্যাক্ট চেকিং আপনি ফেসবুকে একটি পোস্টে দেখলেন বা ইউটিউব ভিডিওতে শুনলেন কিংবা আড্ডার সময় একবন্ধু বলল ‘রাতের আধারে বাঁশঝাড় থেকে সংগৃহিত পানি পান করলে করোনাভাইরাস হবে না'। এটি কি আসলেই ‘খবর’ নাকি ভুয়া খবর, তা খুঁজে বের করা হবে যে উপায়ে সেটাকেই বলে ফ্যাক্ট চেকিং।

ফ্যাক্ট চেকিং এর জন্য কোড অব প্রিন্সিপাল- র পাঁচটি নীতি

১। নিরপেক্ষতা ও সততা

২। সূত্রের স্বচ্ছতা

৩। সংস্থা ও তার অর্থায়নের স্বচ্ছতা

৪। পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা

৫। উন্মুক্ত ও সৎ সংশোধন নীতি

ফ্যাক্ট চেকিং করতে কী লাগে?

১। ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা কোনো বিষয়কে ‘তলিয়ে দেখার মানসিকতা ২। ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু কায়দা কানুন জানা ।

ফেক আইডি : কী করবেন

কারও নাম এবং ছবি দিয়ে ফেক অ্যাকাউন্ট গুলাল প্রথমে আসল পরিচয়ধারী ব্যক্তি এবং তার সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের এই ফেক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে হবে।

কোনো ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে হলে যা করণীয়-

১। প্রথমে ফেক আইডিটি ওপেন করতে হবে। তারপর এই পেজের ম্যাসেজ বক্সের পাশে তিনটি (...) চিহ্নিত আইকনে ক্লিক করে ফাইন্ড সাপোর্ট এর রিপোর্ট প্রোফাইলে ক্লিক করতে হবে।

২। এরপর প্লিজ সিপেক্ট এ প্রবলেম টু কন্টিনিউ শিরোনামে একটি অপশন এলে সেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে প্রিটন্ডিং অর টু বি সামওয়ান সিলেক্ট করতে হবে।

৩। ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজে রিপোর্ট করলে 'হু আর দে প্রিটন্ডিং টু বি?' অপশনে 'মি' নির্বাচন করে রিপোর্ট করা সম্পন্ন করতে হবে।

৪। ফেসবুক বন্ধুরা রিপোর্ট করলে 'হু আর দে প্রিটন্ডিং টু বি?' অপশনে 'ফ্রেন্ড' ক্লিক করলে হইচ ফ্রেন্ড? এর হলে আসল অ্যাকাউন্টধারী ভুক্তভোগী ফেসবুক বন্ধুর প্রোফাইলটি নির্বাচন করে রিপোর্ট করা সম্পন্ন করতে হবে।

৫। যদি কেউ কোনো অভিনেতা বা কোনো নামকরা ব্যক্তির নামে ফেক ফেসবুক আইডি খোলে তাহলে celebrity সিলেক্ট করুন।

এছাড়া ফেক অ্যাকাউন্টটির সম্পূর্ণ প্রোফাইল লিংকসহ স্ক্রিনশট নিয়ে সংরক্ষণ করে নিকটস্থ থানা পুলিশকে অবগত করতে হবে।

অথবা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে। এ ছাড়াও হটলাইন: ০১৭৩০৩৩৬৪৩১ ইমেইল: smmepc2018@gmail.com

ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/cpccidbdpolice / এ অভিযোগ পাঠানো যাবে।


ফেক নিউজ: ভুয়া ওয়েবসাইট কীভাবে চিনবেন

১। ইন্টারনেট দুনিয়া কখনোই একনামে দুইটি ওয়েবসাইট হতে পারে না। সুতরাং আসল ওয়েবসাইট এর সঙ্গে নামের বা ইউআরএল (ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর) পার্থক্য থাকবে। যেমন বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইট bbcbangla.com https://www.bbc.com/bengali হলেও, যে ভুয়া ওয়েবসাইট টি তৈরি করা হয়েছিল তার ঠিকানায় রয়েছে bbe-bangla.comi মাঝখানে একটি হাইফেন বাড়তি যোগ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর ওয়েবসাইট prothomalo.com হলেও, ভুয়া ওয়েবসাইট এর ঠিকানায় একটি অতিরিক্ত a যোগ করা হয়েছে, যেমন prothomaalo.com|

সুতরাং আপনার বিশ্বস্ত সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি ইউআরএল বা নামটি মনে রাখুন অথবা ওয়েব ব্রাউজারে বুকমার্কিং করে রাখুন।

২। ডোমেইনটির দিকে তাকান?

৩। ICANN - এর সাইটে গিয়ে চেক করুন

ভুয়া ওয়েবসাইট আপনার জন্য কতটা হুমকি?

মূলত ফেসবুক, ইউটিউব, ভুয়া ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে এই ভুয়া খবরগুলো ছড়িয়ে থাকে। বিশ্লেষকরা ভুযা খবর ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তিনটি কারণকে প্রধান মনে করেন। যথা:

১. বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোণঠাসা করা;
২. ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া; এবং
৩. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল।

ফেসবুকের ফেক প্রোফাইল থেকে সাবধান থাকবেন কী ভাবে

ফেসবুকে আলাপ থেকে প্রেম, প্রতারণা, অবশেষে আত্মহত্যা। এমন ঘটনা এখন প্রায় রোজই শোনা যায়। ফেক প্রোফাইলের আড়ালে অপরাধমূলক কাজে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। আবার প্রতিশোধ স্পৃহার বশেও অনেকে তৈরি করেন ফেক প্রোফাইল। সতর্ক থাকুন। বোঝার চেষ্টা করুন, ফেক প্রোফাইল কিনা।

১। অচেনা কাউকে বন্ধু করার আগে দ্বিতীয় বার ভাবুন। ফ্রেন্ড লিস্টে বন্ধু সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় হুটহাট কাউকে অ্যাড করবেন না। অচেনা রিকোয়েস্ট এলে প্রশ্ন করুন। জানতে চান তিনি কেন আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠালেন। উত্তর শুনে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে তবেই অ্যাকসেপ্ট করুন।

২। প্রোফাইল ভাল করে পড়ুন। কী করেন, কোথায় থাকেন, কোথায় পড়াশোনা করেছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য আছে কিন দেখুন। কোনও সংস্থার নাম বা ইউনিভার্সিটির নাম নিয়ে সন্দেহ হলে গুগলে খুঁটিয়ে দেখুন। বয়স খুব অল্প অথচ নিজেকে প্রফেসর বা সিইও বলছেন, এমন মানুষ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে অবশ্যই ভেবে দেখবেন। প্রোফাইল আকর্ষক করতে এরা অনেক কিছু করে

থাকেন।

৩। ফ্রেন্ডলিস্ট খুঁটিয়ে দেখুন। এনার বন্ধুরা কি বেশিরভাগ স্থানীয়? নাকি বেশির ভাগই বিদেশি? যদি দেখেন বন্ধুরা অধিকাংশ‍ই বিদেশি তাহলে অবশ্যই মানুষটা সন্দেহজনক

৪। মিউচুয়াল ফ্রেন্ডে চেনা বন্ধ থাকলেও সতর্ক থাকুন। চেনা বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করুন আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট মানুষটিকে চেনেন কিনা। বিশ্বাসযোগ্য উত্তর পেলে তবেই অ্যাড করুন।

৫। ফোটো খুঁটিয়ে দেখুন। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর, পরিবারের সঙ্গে ছবি রয়েছে? কেউ কি এনাকে ট্যাগ করেছে? করে থাকলে তাদের প্রোফাইল কী বলছে? ছবিগুলো কি সন্দেহজনক? প্রোফাইলে কি অত্যন্ত হ্যান্ডসাম কোনও যুবক বা সুন্দরী মহিলার ছবি? নাকি ছবি নেই? এমনটা হলে সতর্ক থাকুন।

৬। ঠিক কী ধরনের জিনিস পোস্ট করেন ইনি? অধিকাংশই কি কোনও ছবি বা কোটেশন? কোনও মৌলিক পোস্ট রয়েছে কিনা খুঁটিয়ে দেখুন। যদি থাকে তবে তা নিয়ে বন্ধুরা মন্তব্য করেছেন কিনা, লাইক করেছেন কিনা, শেয়ার করেছেন কিনা অবশ্যই দেখে নিন ।

৭। যদি ইতিমধ্যেই অ্যাড করে থাকেন তবে খেয়াল রাখুন ইনি কী বলছেন সেই দিকে। কথাবার্তা কি অসঙ্গত? নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেন নাকি একেবারেই দেন না? এই দুটোই কিন্তু সন্দেহজনক। সন্দেহ হলে পাল্টা প্রশ্ন করুন।

৮। ফোন নম্বর- অল্প আলাপেই নিজের ফোন নম্বর, ইমেল অ্যাড্রেস দিয়ে দেবেন না। যদি দেখেন প্রথম দিনই ইনি আপনার নম্বর চাইছেন, দেখা করতে চাইছেন তবে অবশ্যই সতর্ক হোন।

৯। প্রেম- শুরু থেকেই আপনার প্রতি ভাললাগা প্রকাশ করেন বা প্রেম নিবেদন করেন তাহলে নির্দ্বিধায় এনাকে ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বাদ দিন। ফেক প্রোফাইল থেকে এই ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই আসে।

১০। অশালীন প্রস্তাব- এমটা হলে অবিলম্বে ব্লক করুন। যদি চ্যাট করতে করতে আপনাকে ছবি পাঠাতে বলেন বা আপনার সব ছবি লাইক করতে থাকেন তাহলে বুঝবেন মানুষটি বিপজ্জনক। এদের ব্লক করে রাখাই ভাল।

ফেক তথ্যে অংশগ্রহণকারীরা কিভাবে সাড়া না দিবে /সামাজিক সচেতনতা

  • ফেসবুকে কারোর প্রোফাইল ভিজিট রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করা।
  • সেলিব্রেটি অ্যাড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করা।
  • কাস্টমাইজ রিকোয়েস্ট বর্জন করা।
  • সার্ভে বা জরীপে অংশগ্রহণ না করা।
  • নিজস্ব কোনো গোপন তথ্য,কোথাও কোনো ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো সাইটে তা যাচাই না করে দেওয়া যাবে না ।

No comments

Powered by Blogger.