অনলাইনের নিরাপদ ব্যবহার
অনলাইনের নিরাপদ ব্যবহার
তথ্য আদান প্রদানের সাধারণ ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ও ঝুঁকি মোকাবেলা
যেসব বিষয় সোস্যাল মিডিয়ার শেয়ার করা উচিত নয়:
- বাসার ঠিকানা ও বাসার ছবি ;
- বর্তমান ও আগের কর্মক্ষেত্র নিয়ে বিরুক্তি;
- পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা;
- ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট;
- নিজের অবস্থান;
- শিশুর ছবি ;
- ছবির সাথে শিশুর পুরো নাম ;
- শিশুর স্কুলের নাম ও খেলার জায়গা;
সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার সময় অবশ্যই নিম্নের নির্দেশনা মেনে চলব:
সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার সময় অবশ্যই নিম্নের নির্দেশনা মেনে চলব :
- সোস্যাল মিডিয়ায় কখনো ভুল তথ্য ব্যবহার করব না। এতে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত যেকোনো তথ্যই দেখা মাত্রই শেয়ার করা থেকে বিরত থাকব।
- কোন তথ্য শেয়ার করার পূর্বে ভেবে নিব যে তথ্যটি শেয়ার করার ফলে কোনো জাতি-গোষ্ঠীকে ছোট করা হচ্ছে কি না। এমন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকব।
- কিছু ভুল বা মিথ্যা তথ্য শেয়ার করলে বা কোনো কথোপকথনে ব্যবহার করলে সামাজিক ও রাজনৈতিক হানাহানি, সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে, এমন কি প্রাণহানিও ঘটতে পারে এমন তথ্য কখনো শেয়ার করব না।
তথ্যের ঝুঁকি যাচাই:
- উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও উত্তেজনাপূর্ণ শিরোনাম বিশিষ্ট সংবাদ অনেক সময় ভুল হয়ে থাকে।
- অনুমান কিংবা সত্যের মোড়কে পরিবেশিত সংবাদ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। এসব সংবাদের তথ্যসূত্রের সন্ধান ও তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা উচিত।
- ভুয়া বা মিথ্যা সংবাদ বিশ্বাস করা বা শেয়ার করার আগে তথ্যসূত্রের সন্ধান করতে হবে।
- কোন তথ্য প্রকাশ বা শেয়ারের আগে তথ্যের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
- পোস্ট বা শেয়ার করার আগে আপনাকে তথ্যের নির্ভুলতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যাচাই বাছাই করে- নিশ্চিত হতে হবে।
- তথ্য শেয়ারের কোন ঝুঁকি আছে কিনা, এর ফলে কোন বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘাতের সৃষ্টি হবে কিনা এসব বিষয়ও ভাবা দরকার।
- শেয়ার বা পোষ্ট করার পূর্বে বিষয়বস্তু সত্য কিনা তা যাচাই করতে অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং সংবাদ মাধ্যমে খোঁজ করতে হবে।
- বিষয়বস্তু নির্মাতার কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে সে সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।
- বিষয়বস্তুটি সমাজের কারো উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা তা চিন্তা করতে হবে।
ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার পাসওয়ার্ড, হ্যাকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাক্তিগত যোগাযোগ ও নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই ; গুজব প্রতিরোধে করণীয় ।
হ্যাকিং এবং ডিজিটাল একাউন্ট/ডিভাইস সুরক্ষার কৌশল
হ্যাকিং: সাইবার যুদ্ধের মূল হাতিয়ার হচ্ছে এই হ্যাকিং এবং ব্যবহারকারীর অজান্তেই কোন ডিভাইসে অনুনোমদিতভাবে প্রবেশ করাই হ্যাকিং নামে পরিচিত। হ্যাক করার মাধ্যমে যে কোন ডিভাইস সহজেই নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে হ্যাকার। যার ফলস্বরূপ, তথ্য চুরি, গোপন তথ্য ফাঁস, ট্রেসিং-ট্র্যাকিং এর মত ঘটনা ঘটে। ওয়্যারলেস সংযোগ আছে এমন প্রতিটি স্মার্ট ডিভাইসই হ্যাক করা সম্ভব। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজন নিজের ডিভাইসকে হ্যাক হওয়া থেকে রক্ষা করা। কিছু ছোট পদক্ষেপ নিলেই ব্যক্তিগত ডিভাইস হ্যাক হওয়া থেকে রক্ষা করা যাবে।
হ্যাকিং থেকে মোবাইল এবং কম্পিউটার সুরক্ষিত রাখার উপায়
১. পাসওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার: ইন্টারনেট বা অনলাইনে সিকিউরিটি নিয়ে যখন কথা হয়, তখন পাসওয়ার্ড ব্যাপারটা সবার মাথাতেই চলে আসে। পাসওয়ার্ড হচ্ছে আপনার কোন ওয়েবসাইট কিংবা কোন প্রোগ্রাম খোলার একটা চাবি বা কিছু কিওয়ার্ডস।
২. অপরিচিত কোন লিংকে ক্লিক করবেন না: আপনি হয়তো একটা ইমেইল পেলেন, ওখানে একটা অফার দেখলেন বা লোভনীয় কিছু দেখলেন কিন্তু আপনি ইমেইল সেন্ডারকে ও চিনেন না, কিংবা যে সার্ভার থেকে মেইলটা আসছে সেটা ও আপনার পরিচিত নাহ, এমন অবস্থায় এই টাইপের ইমেইল ওপেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. ক্র্যাক সফটওয়ার ইউজ করা থেকে বিরত থাকুন: আমরা কম্পিউটারে অনেক প্রিমিয়াম সফটওয়ার কিনে ইউজ না করে ক্র্যাক ফাইল ইউজ করে থাকি, যা পুরোপুরি বে-আইনি। একই ভাবে কিছু অসাধু হ্যাকাররা এসব ক্র্যাক সফটওয়ারের মধ্যে ওদের হ্যাকিং স্ক্রিপ্ট বসিয়ে সেসব অনলাইনে ফ্রিতে বিতরন করে। অনেকেই না বুঝে সেসব ডাউনলোড করে হ্যাকিং এর শিকার হয়ে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় হ্যাকার তাদের কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ কিংবা বিশেষ কিছু তথ্যের এক্সেস নিয়ে নেয়। এবং নির্দিষ্ট পরিমান কিছু টাকা দাবি করে সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে।
৪. এন্টি-ভাইরাস সফটওয়ার ইউজ করুন: কম্পিউটারের সুরক্ষার জন্য এন্টি-ভাইরাসের কোন বিকল্প নেই। আপনার কম্পিউটারের সর্ব প্রকার সিকিউরিটির জন্য আপনাকে অবশ্যই একটা প্রিমিয়াম এন্টি-ভাইরাস সফটওয়ার ব্যবহার করা উচিত। এতে করে এন্টি-ভাইরাস নিজে থেকেই অনেক সাসপিশিয়াস ওয়েবসাইট এবং প্রোগ্রাম ব্লক করে দিয়ে আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে। আর নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রোপার আপডেট এবং স্ক্যানের মাধ্যমে আপনি আপনার পিসির হেলথ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। কোন প্রকার ভাইরাস থাকলে সেটা আপনার স্ক্যানে ধরা পড়বে এবং রিমুভ ও করা যাবে। এটা আপনার হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।
৫. শুধু বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে অনলাইন শপিং করুন: অনলাইনে শপিং এখন অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে শপিং এর সময় আমাদের ব্যাংক বা কার্ড ডিটেলস সহ অনেক সেনসিটিভ তথ্য আমাদেরকে শেয়ার করতে হয় ওই ওয়েবসাইটের সাথে। এখন আমরা যদি অপরিচিত কিংবা আন-ট্রাস্টেড কোন ওয়েবসাইটে এসব তথ্য শেয়ার করি, তাহলে আমাদের এই ডাটা গুলো হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শুধু মাত্র ট্রাস্টেড এবং রিলায়েবল ওয়েবসাইট গুলো থেকেই শপিং করা উচিত। এতে করে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেশী।
৬. সব ধরনের পপ-আপ এডস ইগনোর করুন: আমরা যখন তথ্য খুজতে এই সাইট, ওই সাইটে ঘুরে বেড়াই, তখন হয়তো দেখি কিছু ওয়েবসাইটে পপ-আপ উইন্ডো ওপেন হচ্ছে। ওসব হচ্ছে পপ-আপ এডস। এসব এডস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্পাম বা সস্তা বিজ্ঞাপন হয়ে থাকে। এধরনের সকল পপ-আপ ইগনোর করতে হবে।
৭. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে বিরত থাকুন: পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ফলে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারন ওখানের নেটওয়ার্ক পাবলিক হওয়ার কারনে যে কেউ এক্সেস করতে পারে এবং একটা পর্যায়ে আপনার ডিভাইস ও হ্যাকড হতে পারে। আর যদি ইমার্জেন্সি কোন কারনে আপনাকে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে একটা ভালো মানের প্রিমিয়াম ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত। দেখা যায় অনেকাংশে ভিপিএন আপনার নেটওয়ার্ক স্ট্যাটাস, লোকেশন, আই পি ইত্যাদি চেঞ্জ করে বা হাইড করে আপনাকে সুরক্ষিত রাখে।
৮. একাধিক ইমেইল ব্যবহার করুন: একাধিক ইমেইল ব্যবহার করার মুল কারন হচ্ছে একটার সাথে আরেকটাকে রিকভারি মেইল বা সেকেন্ডারি মেইল হিসাবে যুক্ত করে রাখা। যদি আপনার নির্দিষ্ট কোন ইমেইলে সমস্যা হয়, তাহলে ও যেন আপনি আপনার সেকেন্ডারি ইমেইল দিয়ে আপনার জরুরি ওয়েবসাইট এক্সেস করতে পারেন কিংবা আপনার মুল ইমেইল রিকভার করতে পারেন।
৯. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এড করুন: ফেসবুক সহ নানা ওয়েব সাইটে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অপশন চালু রয়েছে। এটা খুবই স্ট্রং একটা প্রসেস। এর ফলে কেউ কোন ওয়েবসাইটে লগিন করতে চাইলে দুইটা স্টেপ পার হয়ে যেতে হবে। যেমনঃ হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড পেয়ে গেছে, এখন সে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করলেই কিন্তু সে আপনার একাউন্টের এক্সেস পেয়ে যাবে। কিন্তু টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে তাকে পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরে ইমেইল কিংবা ফোনের মাধ্যমে আবার ও একটা কোড দিয়ে ভেরিফাই করে তারপর লগিন করতে হবে। এই পদ্ধতি গুলো যদি আপনি প্রোপারলি ফলো করেন, তাহলে আশা করা যায় যে আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত হ্যাকিং এর শিকার হবেন না। উৎস: https://datarecoverystation.com/ways-to-protect-against-hacking/
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাক্তিগত যোগাযোগ ও নৈতিকতা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে মানুষ কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন ইত্যাদি ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি সামাজিক সম্প্রদায় তৈরি করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে এবং ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য শেযার করে।
১০টি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম:
১. ফেসবুক
২. টুইটার
৪. ইনস্টাগ্রাম
৫. স্ন্যাপচ্যাট
৩. লিংকডইন
৬. ইউটিউব (মিডিয়া শেয়ারিং সাইট)
৭. কোওড়া (Quora )
৮. রেডডিট (Reddit )
৯. পিন্টারেস্ট (Pinterest)
১০. Vimeo
সামাজিক যোগাযোম মাধ্যম ব্যবহারের সুবিধাসমূহ
১. এটি বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য একটি দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম।
২. আপনার কাছের এবং প্রিয়জনের সাথে কথোপকথন করার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।
৩. আপনার মতামত প্রকাশ করার সুযোগ এবং অন্যের থেকে মতামত পাওয়ার সুযোগ।
৪. সোশ্যাল মিডিয়া সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন প্রবীণ নাগরিকদের নিঃসঙ্গতা হ্রাস করতে সহাযতা করে।
৫. সামাজিক মিডিয়া সংকটজনিত সময় জনস্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা তথ্যের দ্রুত প্রসারণের অনুমতি দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অসুবিধাসমূহ
- সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ভুয়া/ফেক ব্যবহারকারীর কারণে পর্ন ছবি এবং অম্লীল মন্তব্য প্রকাশ করে নেওয়ার ক্রিয়াকলাপ রয়েছে।
- অসত্য তথ্য প্রকাশ করে কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করে থাকে।
- এটি একধরণের আসক্তির মতো, তরুন প্রজন্ম এটির নেতিবাচক ব্যবহারের ফলে তাদের বড় ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারের ফলে আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।
- আপনি যদি অতিমাত্রায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন তাহলে এক পর্যায়ে আপনি এটির প্রতি আসক্তি যাবেন এবং আপনি আপনার পিতামাতা এবং বন্ধুদের চেযে মিডিয়াকে বেশি সময় দেওয়া শুরু করবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদ থাকার কৌশল
- ফেসবুকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
- বন্ধু তালিকা
- ফেসবুকে প্রাইভেসি সেটিংস নির্বাচন
- পাসওয়ার্ড সচেতনতা
- টু-স্টেপ অথেনটিকেশন
- একই একাউন্ট থেকে পেজ ম্যানেজ করা
- গেম বা কুইজ থেকে সতর্ক
- নিয়মিত চেকাপ
- ইনস্টাগ্রামে একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
উৎস: https://www.ittefaq.com.bd
সামাজিক মাধ্যমে করণীয় ও বর্জনীয়
- শ্রদ্ধাশীল হোন
- আপনার মন্তব্য কী বোঝাচ্ছে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন
- ঠাট্টা বিদ্রূপ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
- অপরিচিত ব্যক্তির থেকে আপনার তথ্য নিরাপদ রাখুন
- ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এবং গ্রুপের আমন্ত্রণ গ্রহণের আগে ভালোমতো দেখে নিন
উৎস: https://digitalliteracy.gov.bd/literacy-for/samajik madhzme-krneey-oo-brjneey
অনলাইন নৈতিকতা
অনলাইন মাধ্যমগুলোতে আমাদের বিচরণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা এখন অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছি। যোগাযোগের উদ্দেশ্যে আমরা প্রতিনিয়ত অনলাইন মাধ্যমগুলো ব্যবহার করছি। আমরা যাতে অনলাইনে এমন কিছু করে না বসি যা পরবর্তীতে সমস্যার সৃষ্টি করবে, সেদিকে আমাদের বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন। তাই অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইন নৈতিকতা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়ে থাকে। যথা –
- ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা
- ব্যক্তি স্বাধীনতার যথোচিত ব্যবহার
- ব্যক্তি মর্যাদা
- রাষ্ট্রদ্রোহী পোস্ট/বক্তব্য প্রচার না করা
- নিজের বা অন্য কারো ব্যক্তিগত তথ্য যাতে ঝুঁকির সম্মুখীন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা
- অন্যের জন্য সম্মানহানীকর এমন কাজ না করা
- সকল শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা
- কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অনলাইন মাধ্যমসমূহ ব্যবহার না করা
উৎস: https://digitalliteracy.gov.bd/literacy-for/onlain-noitikta-smprke-dharna
তথ্যের সত্যতা ও উৎস যাচাই
তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের ফলে আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত অনেক তথ্য আসে। অনেক সময় একই বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকতে পারে। তাই কোন তথ্যটি সবচেয়ে বেশি সাম্প্রতিক এবং যথার্থতা যাচাই করা জরুরি।
১। তথ্যটি কত তারিখে প্রচারিত হয়েছে তা যাচাই করতে হয়।
২। যতটা সম্ভব সাম্প্রতিক তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করব।
৩। কোনোকোনো নিউজের হেডলাইন বা শিরোনাম দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিব না, পুরো খবর পড়ব।
৪। কোন মাধ্যমে একটি সংবাদ দেখার পর একই Key Word দিয়ে আবার সার্চ দিব এবং যাচাই করব, অন্য মাধ্যমও একই সংবাদ দিচ্ছে কি না?
৫। পত্রিকা বা টেলিভিশনের লোগো দেখেই বিশ্বাস করে ফেলব না যে, সংবাদটি ঐ পত্রিকার বা টেলিভিশনের। যাচাই করার জন্য ঐ পত্রিকা বা টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে যাব।
ডিজিটাল প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের কৌশল:
Please Click
টু ফ্যাক্টর ওথেন্টিফিকেশন (2 FA) চালু করা;
- সব ডিজিটাল ফ্লাটফর্মে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করা;
- কম্পিউটার সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো নিয়মিত আপডেট করা;
- সোস্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা;
- ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য কারো সাথে শেয়ার না করা। ( পিনকোড বা পাসওয়ার্ড )
টু ফ্যাক্টর ওথেন্টিফিকেশন ( 2 FA):
Please Click
টু ফ্যাক্টর ওথেন্টিফিকেশন এর অর্থ হচ্ছে যখন আমরা আমাদের ইমেইলে প্রবেশের জন্য ইমেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করি তখন আমাদের কাছে একটি এসএমএস অর্থাৎ ওটিপি ( ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড যা ৬ ডিজিটের হয়ে থাকে) আমাদের মোবাইলে আসে এবং আমরা যখন সেই ওটিপি দেই তখনই কেবল আমরা আমাদের ইমেইলে প্রবেশ করতে পারি।
ধাপ-১:
প্রথমে আমরা একটি ব্রাউজারের অ্যাড্রেজার-এ Sign in - Google accounts লিখে ক্লিক করে ই-মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টিতে প্রবেশ করব। জি-মেইলের একাউন্টে প্রবেশের Manage Your Google Account লেখাটিতে ক্লিক করার পর কম্পিউটার স্ক্রিনের ডান দিকের 'Security' অপশনে ক্লিক করব। এরপর How you sign into Google-এর প্রথম অপশন ‘2- Step Verification' লেখা জায়গাটিতে ক্লিক করব। এরপর আমরা Get Started লেখাটিতে ক্লিক করে পরের ধাপে যাব।
ধাপ-২ :
Get Started লেখাটিতে ক্লিক করে পরের স্টেইজে প্রবেশ করে আমরা দেখব একটি মোবাইল নম্বর সেট করার অপশন। এখানে আমরা আমাদের পরিবারের কারো একটি সচল নাম্বার দিব। আমরা Text message লেখা জায়গাটি সিলেক্ট করে Next লেখাটিতে ক্লিক করব। কিছুক্ষণ পর মোবাইলে ৬ ডিজিটের একটি ওটিপিসহ ম্যাসেজ আসবে। অতঃপর সেই ওটিপি-টি Enter the code-এর নিচে লিখে Next বাটনে ক্লিক করব।
এরপর আমাদের স্ক্রিনে আসা পেইজটিতে TURN ON লেখাটিতে ক্লিক করার মাধ্যমে আমরা আমাদের জিমেইল একাউন্টির ২-Step Verification চালু করব।
গুজব প্রতিরোধে করণীয়
- ফেইক নিউজ বা ভুয়া সংবাদ পরিহার করতে হবে। কারণ এতে গুজব সবচেয়ে বেশি থাকে।
- ভুয়া তথ্য দেখামাত্র ডিলিট করে দিতে হবে।
- তথ্য অধিদপ্তরের ‘ফ্যাক্ট চেকিং কমিটি'কে গুজব সনাক্তকরণে সহযোগিতা করা যেতে পারে।
- গুজব প্রতিরোধে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে ক্যারোটাইজেশন বা সংবাদের চরিত্র নির্ধারণ করা।
- তথ্যের ক্রিয়েশন বা কে তথ্যটি তৈরি করেছে কার কাছ থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় এসেছে তা যাচাই করতে হবে।
- তথ্যের সার্কুলেশন বা কীভাবে একটি তথ্য ছড়াতে পারে তা চিহ্নিত করতে হবে।
- অতঃপর ভুয়া তথ্য ঠেকানোর সর্বশেষ ধাপ কাউন্টারিং বা প্রতিকার।
- গুজব ঠেকাতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে আরও বলিষ্ঠ হতে হবে।
- নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ‘কাউন্সেলিং’ একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
- গুজবের ক্ষতিকারক প্রভাব মোকাবিলার জন্য নিজেকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যকেও সচেতন করতে হবে। এছাড়া গঠনমূলক ও উন্মুক্ত আলোচনাকে উৎসাহিতকরণ গুজবের বিস্তার কমাতে সাহায্য করতে পারে।

No comments
Post a Comment