Header Ads

শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর ১ ডজন পরামর্শ

 শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর ১ ডজন পরামর্শ



প্রতিটি শিশুর আগ্রহ, শেখার ধরন ও সক্ষমতা এক রকম নয়। তাই যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক বিভিন্ন নিবন্ধে উঠে এসেছে—ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব
সাধারণত শিশুর বিকাশ ও সম্ভাবনা নির্ভর করে তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, পারিবারিক যত্ন, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার ওপর। গবেষণা বলছে, বুদ্ধিমত্তা কেবল জন্মগত নয়; বরং সঠিক পরিচর্যা, অনুশীলন ও অভ্যাসের মাধ্যমে এর উন্নয়ন করা সম্ভব। সঠিক পুষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, পারিবারিক সহায়তা, খেলাধুলা, পড়াশোনা ও ইতিবাচক পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বয়ে একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব।
কথোপকথন ও প্রশ্ন
শিশুর সঙ্গে কথা বলার ফলে তার চিন্তাশক্তি ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর অস্পষ্ট শব্দ বা অঙ্গভঙ্গিকেও গুরুত্ব দিয়ে তার সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া উচিত। এর ফলে শিশুর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। এভাবে সে ধীরে ধীরে ভাষা ও যুক্তি শিখে ফেলে। এভাবে প্রশ্ন করা যেতে পারে, ‘তুমি কী ভাবছ?’ বা ‘এটা কেন হলো?’ এ ধরনের প্রশ্ন শিশুকে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তায় অভ্যস্ত করে। কারণ শিশুরা এমন প্রশ্ন শুনে সাধারণত ভেবে উত্তর দেয়।
মস্তিষ্ক বিকাশের উপযুক্ত সময়
শিশুর জন্মগ্রহণের প্রথম কয়েক বছর মস্তিষ্ক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় শিশু পরিবেশ বা আশপাশ থেকে শেখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভাষা-সমৃদ্ধ পরিবেশ, বই পড়া, গল্প বলা ও চিন্তাশীল আলোচনার মাধ্যমে শিশুর বুদ্ধিমত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময়টাতে শিশুর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত। এমন সব কথা বা আচরণ করা যেতে পারে, যার ফলে শিশু সে বিষয়ে বুঝতে বা ভাবতে শেখে। এভাবেই ধীরে ধীরে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটবে।
পড়ার অভ্যাস ও গল্প
শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে বই পড়ার গুরুত্বও কম নয়। তবে শুধু পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না।
বরং অংশগ্রহণমূলক পড়াশোনায় অভ্যস্ত করতে হবে। অর্থাৎ সেই পঠিত বিষয়ে শিশুকে প্রশ্ন করা অথবা পঠিত গল্প নিয়ে আলোচনা করা চিন্তাশক্তি বিকাশে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের পড়াশোনা শিশুদের চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সহায়তা করে। গল্প শোনার মাধ্যমে শিশুর কল্পনাশক্তি, শব্দভাণ্ডার ও সামাজিক বোঝাপড়া উন্নত হয়।
খেলাধুলা
খেলাধুলা শিশুদের জন্য কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, এটি শেখারও অন্যতম একটি মাধ্যম। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামাজিক আচরণ শেখে। গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাধুলা শিশুর মস্তিষ্কের নির্বাহী কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং সৃজনশীলতা বাড়ায়। পাজল, ব্লক দিয়ে কিছু গড়া, অভিনয়ভিত্তিক খেলা—এসব শিশুর চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
পুষ্টি ও শারীরিক সুস্থতা
সুস্থ শরীর ছাড়া সুস্থ মস্তিষ্ক গড়ে ওঠে না। বিশেষ করে শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান যেমন—ওমেগাজাতীয় উপাদান মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সহায়ক এবং বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আয়োডিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাব পূরণ করলে শিশুর বুদ্ধিমত্তা উন্নত হতে পারে।
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
শিশুর হয়ে সব সমস্যা সমাধান করে দিলে সে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বরং তাকে নিজে চিন্তা করে সমাধান বের করতে উৎসাহিত করা উচিত। এতে তার যুক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। যখন শিশু কোনো সমস্যায় পড়ে, তখন তাকে সমাধানের পথ দেখানো যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সেই কাজ বা সমাধান না করে দিয়ে বরং শিশুকে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করাটাই বেশি কার্যকর
মানসম্মত শিক্ষা
শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে স্কুলে ভর্তির আগের ঘরোয়া শিক্ষা। কারণ স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুরা ঘরেই বিভিন্ন বর্ণ, শব্দ ও বস্তুর সঙ্গে পরিচিত হয়। ভাষা শিক্ষা প্রাথমিকভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করালেই হবে না; সেখানে শেখার পরিবেশ কেমন, শিক্ষকরা কতটা দক্ষ—এসব বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সৃজনশীল কার্যক্রম
ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে অংশ নিলে শিশুর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, সংগীতচর্চা শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব কার্যক্রম শিশুদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। The Great Bangladesh
ইতিবাচক পরিবেশ
শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ অপরিহার্য। শিশুকে উৎসাহ দেওয়া, তার সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ব্যর্থতায় সহানুভূতিশীল থাকা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। গবেষণা বলছে, আত্মবিশ্বাস ও শেখার আগ্রহ বুদ্ধিমত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত ঘুম
ঘুম শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি একটি নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন শিশুকে শৃঙ্খলাবোধ শেখায়।
প্রযুক্তির ব্যবহার
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে অতিরিক্ত স্মার্টফোন বা এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারে শিশুর মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নয়।
চাপ নয়
শিশুর সঙ্গে সময় কাটানো, তার আগ্রহ বোঝা এবং তাকে শেখার সুযোগ করে দেওয়া মূলত অভিভাবকের দায়িত্ব। এসবই তার বুদ্ধিমত্তা বিকাশে মূল ভূমিকা রাখবে। শেখার জন্য শিশুকে চাপ দেওয়া উচিত নয়; বরং শেখাটা যেন শিশুর জন্য আনন্দদায়ক বা উপভোগ্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জোর করে শেখানো জ্ঞান স্থায়ী হয় না, কিন্তু আনন্দের মাধ্যমে শেখা জ্ঞান দীর্ঘস্থায়ী হয়।
♦
সিলেবাসে নেই ডেস্ক
সোর্স কালেরকন্ঠ

No comments

Powered by Blogger.